ইসলামাবাদ: পাকিস্তান বিমান বাহিনীর একটি JF-17 Thunder যুদ্ধবিমান (JF-17 Thunder crash)ল্যান্ডিংয়ের সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। পাইলট জরুরি অবস্থায় ইজেক্ট করে প্রাণ বাঁচিয়েছেন। এই ঘটনা পাকিস্তানের সামরিক বিমান চালনায় নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, বিশেষ করে JF-17-এর নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে।ঘটনাটি ঘটেছে পাঞ্জাব প্রদেশের জাঙ্গ জেলার কাছে একটি বিমানঘাঁটিতে।
বিমানটি রুটিন ট্রেনিং মিশন থেকে ফিরছিল এবং ল্যান্ডিংয়ের সময় টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে নিয়ন্ত্রণ হারায়। পাইলট দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে মার্টিন-বেকার PK16LE ইজেকশন সিট ব্যবহার করে নিরাপদে বেরিয়ে আসেন। পাইলটের নাম প্রকাশ করা হয়নি, তবে পাকিস্তান বিমান বাহিনী (PAF) নিশ্চিত করেছে যে তিনি সুস্থ আছেন এবং কোনো গুরুতর আঘাত পাননি। বিমানটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে, কিন্তু মাটিতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর নেই।
পাকিস্তান বিমান বাহিনীর পক্ষ থেকে একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ল্যান্ডিং গিয়ারের সমস্যা বা ইঞ্জিন ফেলিওরের সম্ভাবনা দেখা হচ্ছে। JF-17 Thunder চীন-পাকিস্তান যৌথ উন্নয়নের ফল, যা পাকিস্তানের বিমান বাহিনীর মেরুদণ্ড। এটি হালকা, মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান, যা F-16-এর সঙ্গে মিলে কাজ করে। কিন্তু JF-17-এর ক্র্যাশ ইতিহাস বেশ লম্বা। ২০২৪ সালের জুন মাসে জাঙ্গের কাছেই আরেকটা JF-17 Block 2 ক্র্যাশ হয়েছিল, যেখানে পাইলট ইজেক্ট করে বেঁচেছিলেন।
আরও দেখুন: বিজেপিতে যোগ দিলেন বঙ্কিমের বংশধর
মার্টিন-বেকার কোম্পানি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে সেই ঘটনা নিশ্চিত করেছিল। এর আগে ২০২০, ২০২১ সালেও JF-17-এর ক্র্যাশ হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, RD-93 ইঞ্জিনের সমস্যা, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং অতিরিক্ত ব্যবহার এসব দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।এই দুর্ঘটনা পাকিস্তান বিমান বাহিনীর জন্য লজ্জার। ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষে JF-17-এর ব্যবহার হয়েছিল এবং পাকিস্তান দাবি করেছিল যে এটি S-400 সিস্টেম ধ্বংস করেছে।
কিন্তু ক্র্যাশের ধারাবাহিকতা JF-17-এর নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। পাকিস্তান JF-17-কে বিদেশে রপ্তানি করার চেষ্টা করছে নাইজেরিয়া, মিয়ানমারসহ কয়েকটা দেশে বিক্রি হয়েছে। কিন্তু এমন দুর্ঘটনা ক্রেতাদের আস্থা কমাতে পারে।পাইলটের জীবন বাঁচানো ইজেকশন সিটের কারণে সম্ভব হয়েছে। মার্টিন-বেকারের PK16LE সিট JF-17-এর জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা। এটি পাইলটকে দ্রুত ও নিরাপদে বের করে আনে। পাকিস্তান বিমান বাহিনী এই ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার (ব্ল্যাক বক্স) পরীক্ষা করা হচ্ছে।









